Voting in West Bengal :পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার সাথে সাথেই কার্যকর হলো আদর্শ আচরণবিধি। রাত ১০টা থেকে প্রচার বন্ধসহ নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সব কড়া নিয়ম ও বিধিনিষেধ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
✦ আদর্শ আচরণবিধি ও নির্বাচনী প্রচারবিধি ২০২৬✦
পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের চার রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেVoting নির্বাচনী দামামা বেজে উঠেছে। নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করার সাথে সাথেই সমগ্র নির্বাচনী এলাকায় আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct – MCC) বলবৎ করা হয়েছে। মূলত অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই কমিশন এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। কমিশনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের জন্য প্রচারের ক্ষেত্রে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
✦ আদর্শ আচরণবিধি বা এমসিসি কী?✦
নির্বাচন পরিচালনার জন্য রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের মেনে চলার জন্য তৈরি করা একগুচ্ছ নির্দেশাবলিই হলো আদর্শ আচরণবিধি। এটি কার্যকর হওয়ার পর সরকারি কোনো নতুন প্রকল্প ঘোষণা বা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো কাজ করা আইনত নিষিদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও ভোটের তারিখ ঘোষণার মুহূর্ত থেকেই এই বিধি কার্যকর হয়ে গিয়েছে।
✦ রাতের প্রচারে লাউডস্পিকার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ✦
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রচারের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে:
রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার চালানো যাবে না।
এই সময়ের মধ্যে লাউডস্পিকার, পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম বা যেকোনো ধরনের সাউন্ড অ্যাম্পলিফায়ার ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
জনসাধারণের বিশ্রামের কথা মাথায় রেখে এবং শব্দবিধি বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা দলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাইলেন্স পিরিয়ড বা নীরবতার সময়কাল
ভোটগ্রহণের ঠিক আগের ৪৮ ঘণ্টা সময়কে কমিশন ‘সাইলেন্স পিরিয়ড’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই সময়ের কিছু বিশেষ নিয়ম রয়েছে:
ভোট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রকাশ্য প্রচার বন্ধ করতে হবে।
এই সময়ে কোনো সাংবাদিক বৈঠক বা জনসভা করা যাবে না।
এমনকি আকারে-ইঙ্গিতেও ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমে করা নিষিদ্ধ।
সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে কোনো প্রকার উসকানিমূলক বক্তব্য রাখা যাবে না।
পরিবেশ রক্ষায় কমিশনের বিশেষ উদ্যোগ
নির্বাচনী প্রচারের সময় বিপুল পরিমাণ প্রচার সামগ্রী তৈরি করা হয়, যা অনেক সময় পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এবারের নির্দেশিকায় আদর্শ আচরণবিধি-তে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জন
কমিশন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, নির্বাচনী প্রচারের জন্য কোনোভাবেই ক্ষতিকারক প্লাস্টিক বা পলিথিন ব্যবহার করা যাবে না।
ব্যানার ও পোস্টার: প্রচারের সময় ব্যবহৃত ব্যানার বা পোস্টার তৈরিতে কাপড় বা কাগজ ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। পিভিসি (PVC) বা পলিথিন যুক্ত ফ্লেক্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধি মেনে চলতে হবে।
উপকরণ: রাজনৈতিক দলগুলোকে এমন উপকরণ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যা সহজেই মাটিতে মিশে যায়।
শাস্তি: যদি কোনো এলাকা প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে দূষিত হয়, তবে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে নিতে হবে এবং প্রয়োজনে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হবে।
প্রচারে শিশুদের নিয়োগ: সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো কাজে নাবালক বা শিশুদের ব্যবহার করাকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।মিছিল ও জনসভা: কোনো রাজনৈতিক মিছিল, পদযাত্রা বা জনসভায় শিশুদের শামিল করা যাবে না।পোস্টার লাগানো: বাড়ির দেওয়ালে বা রাস্তার মোড়ে পোস্টার লাগানো বা লিফলেট বিলি করার কাজে শিশুদের ব্যবহার করা যাবে না।আচরণবিধি লঙ্ঘন: যদি কোনো প্রার্থীকে শিশুর মাধ্যমে প্রচার চালাতে দেখা যায়, তবে কমিশনের পোর্টালে অভিযোগ জানানো মাত্রই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।আর্থিক লেনদেন ও ভোটারদের প্রভাবিত করাআদর্শ আচরণবিধি বলবৎ হওয়ার পর থেকেই ভোটারদের কোনো প্রকার উপহার বা নগদ অর্থ প্রদান করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।চেকপোস্ট স্থাপন: বেআইনি অর্থ চলাচল রুখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এবং জেলা সীমান্তে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।তদারকি: নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ফ্লাইং স্কোয়াড এবং স্ট্যাটিক সার্ভেইল্যান্স টিম ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছে।ধর্মীয় স্থান ব্যবহার: প্রচারের জন্য মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা কোনো ধর্মীয় স্থান ব্যবহার করা যাবে না। জাতিগত বা ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়ে ভোট চাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট:বিষয়কমিশনের নির্দেশিকাব্যক্তিগত আক্রমণরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনো মন্তব্য করা যাবে না।সরকারি সম্পদসরকারি গাড়ি, বাংলো বা কর্মীদের প্রচারের কাজে ব্যবহার করা যাবে না।নতুন প্রকল্পএমসিসি চলাকালীন কোনো নতুন রাস্তা বা জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ঘোষণা করা যাবে না।দেওয়াল লিখনগৃহস্থের অনুমতি ছাড়া কারো দেওয়ালে চুনকাম বা লিখন করা যাবে না।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের নিয়ম

গুজব ও ভুয়া খবর ছড়ানো রোধ
ভোটের সময় সাম্প্রদায়িক উসকানি বা কোনো প্রার্থীর নামে ভুয়া খবর (Fake News) ছড়ানো একটি বড় সমস্যা। কমিশন স্পষ্ট করেছে যে:কোনো ব্যক্তির সম্মানহানি ঘটে এমন কোনো পোস্ট বা ভিডিও শেয়ার করা যাবে না।এআই (AI) ব্যবহার করে তৈরি করা ‘ডিপফেক’ ভিডিও বা ছবি দিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করা যাবে না।প্রতিটি জেলার সাইবার সেল সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে এবং বিতর্কিত পোস্ট সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেবে।
বড় সমাবেশের জন্য অ্যাপের মাধ্যমে অনুমতি
আগে জনসভা বা মিছিলের অনুমতির জন্য থানায় দৌড়াদৌড়ি করতে হতো। এখন কমিশন ‘সুবিধা’ (Suvidha Portal) নামক একটি অ্যাপ ও ওয়েবসাইট চালু করেছে। এর মাধ্যমে:রাজনৈতিক দলগুলো অনলাইনে সভার অনুমতি চাইতে পারবে।’ফার্স্ট কাম ফার্স্ট সার্ভ’ ভিত্তিতে অর্থাৎ যারা আগে আবেদন করবে তারা আগে অনুমতি পাবে।এর ফলে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ কমবে এবং স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
অফিসার ও সরকারি কর্মচারীদের ভূমিকা
আদর্শ আচরণবিধি চলাকালীন কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচার কাজে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো প্রার্থীর পক্ষে পোস্ট দেওয়া বা শেয়ার করাও তাদের জন্য নিষিদ্ধ। যদি কোনো আধিকারিক পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেন, তবে কমিশন তাকে তাৎক্ষণিক বদলি বা বরখাস্ত করার ক্ষমতা রাখে।
প্রচার বন্ধের সময় সোশ্যাল মিডিয়া
ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে যেমন লাউডস্পিকার বন্ধ থাকে, ঠিক তেমনি সোশ্যাল মিডিয়াতেও কোনো নতুন প্রচারমূলক বিজ্ঞাপন চালানো যাবে না। তবে প্রার্থীরা তাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে সাধারণ সৌজন্যমূলক বার্তা দিতে পারেন, যা সরাসরি ভোট চাওয়ার শামিল হবে না।সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের চেকলিস্ট:কি করবেনকি করবেন নাবিজ্ঞাপনের খরচ হিসেব রাখাঅন্য দলের প্রার্থীর বিকৃত ছবি ব্যবহারতথ্যের সত্যতা যাচাই করাভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে প্রোপাগান্ডা চালানোকমিশনের অনুমতি নিয়ে ভিডিও ছাড়াসাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টিকারী বক্তব্যইউজারদের কমেন্টে শালীনতা বজায় রাখাহোয়াটসঅ্যাপেBulk মেসেজ বা স্প্যাম করা
নির্বাচনী খরচের উর্ধ্বসীমা
কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে একজন প্রার্থী একটি নির্দিষ্ট অংকের বেশি অর্থ খরচ করতে পারেন না।হিসাব রক্ষণ: প্রার্থীকে একটি আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় এবং সমস্ত নির্বাচনী লেনদেন সেই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই করতে হয়।দৈনিক রেজিস্টার: প্রচারের কাজে ব্যবহৃত গাড়ি, মাইক, কর্মী এবং পোস্টারের দৈনিক খরচ একটি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করতে হয়, যা যেকোনো সময় কমিশনের আধিকারিকরা পরীক্ষা করতে পারেন।
Voting in West Bengal : সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নিষেধাজ্ঞা
আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর শাসক দল বা প্রার্থীরা কোনোভাবেই সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবেন না।সরকারি গাড়ি ও বিমান: মন্ত্রী বা গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরা প্রচারের কাজে কোনো সরকারি গাড়ি, বিমান বা হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবেন না।বিজ্ঞাপন: সরকারি কোষাগারের টাকা খরচ করে সরকারের সাফল্য প্রচারমূলক কোনো বিজ্ঞাপন সংবাদপত্র বা টিভিতে দেওয়া যাবে না।সার্কিট হাউস ও ডাকবাংলো: সরকারি ডাকবাংলো বা সার্কিট হাউসগুলো কোনো নির্দিষ্ট দলের নির্বাচনী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। সকল দলের প্রার্থীদের জন্য এগুলোতে সমান সুযোগ থাকতে হবে।
Voting in West Bengal : নতুন প্রকল্প ও নিয়োগ বন্ধ
এমসিসি চলাকালীন ভোটারদের প্রলুব্ধ করতে পারে এমন কোনো নতুন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ঘোষণা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: কোনো নতুন রাস্তা, ব্রিজ বা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা যাবে না।চাকরি প্রদান: সরকারি বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে নতুন কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার দেওয়া স্থগিত রাখতে হবে। তবে জরুরি পরিষেবা (যেমন স্বাস্থ্য বা বিপর্যয় মোকাবিলা) এর আওতার বাইরে থাকে।
Voting in West Bengal : ভোটারদের জন্য কমিশনের বিশেষ অ্যাপ
প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ ভোটারদের সচেতন করতে কমিশন কিছু ডিজিটাল টুল চালু করেছে:cVIGIL App: যদি কোনো নাগরিক দেখেন যে কোথাও আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে (যেমন টাকা বিলি বা মদ্যপান), তবে তিনি এই অ্যাপের মাধ্যমে ছবি বা ভিডিও তুলে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন। ১০০ মিনিটের মধ্যে কমিশন পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।Voter Helpline: ভোটার তালিকায় নাম দেখা বা বুথ কেন্দ্র খুঁজে পেতে এই অ্যাপটি সাহায্য করে।নির্বাচনী বিধিনিষেধের সারসংক্ষেপ:ক্ষেত্রবিধিনিষেধের প্রকৃতিআর্থিক লেনদেন১০,০০০ টাকার বেশি লেনদেন চেকে বা ডিজিটাল মাধ্যমে হওয়া বাঞ্ছনীয়।মিছিলের রুটস্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে মিছিলের রুট ও সময় আগেভাগে অনুমোদিত হতে হবে।বিদ্বেষমূলক ভাষণজাতি, ধর্ম বা ভাষার ভিত্তিতে বিভাজনকারী কোনো বক্তব্য সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ।ভোটকেন্দ্রের দূরত্বভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো প্রকার প্রচার বা ক্যাম্প করা নিষিদ্ধ।
ভোটগ্রহণের দিন বুথ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনানির্বাচনী প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হলো ভোটগ্রহণের দিন। এই দিনে বিশৃঙ্খলা এড়াতে আদর্শ আচরণবিধি-র অধীনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে এবং নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে কী করা যাবে আর কী যাবে না, তা কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে।
Voting in West Bengal : ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে বিধিনিষেধ
ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রের চারপাশের নিরাপত্তা বজায় রাখতে কমিশন নির্দিষ্ট গাইডলাইন জারি করে:প্রচার নিষিদ্ধ: ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনো প্রকার রাজনৈতিক প্রচার, ফেস্টুন বা লিফলেট রাখা যাবে না।রাজনৈতিক ক্যাম্প: রাজনৈতিক দলগুলো কেন্দ্র থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে তাদের সাহায্যকারী বুথ বা ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবে। তবে সেখানে একজন প্রার্থীর ছবি ছাড়া অন্য কোনো প্রচার সামগ্রী থাকতে পারবে না।স্মার্টফোন ব্যবহার: বুথের ভেতরে প্রিসাইডিং অফিসার এবং নিরাপত্তারক্ষী ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। ভোটারদের ফোন নিয়ে বুথে ঢোকা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
Voting in West Bengal : পোলিং এজেন্টদের দায়িত্ব ও আচরণ
প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের পক্ষ থেকে বুথের ভেতর পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তাদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়:পরিচয়পত্র: এজেন্টদের অবশ্যই রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক অনুমোদিত বৈধ পরিচয়পত্র সাথে রাখতে হবে।বুথ ত্যাগ: ভোট চলাকালীন সময়ে পোলিং এজেন্টরা হুটহাট বুথ ত্যাগ করতে পারবেন না। বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে গেলে বিকল্প এজেন্টের ব্যবস্থা থাকতে হবে।ভোটারদের প্রভাবিত করা: বুথের ভেতর বসে ভোটারদের নির্দিষ্ট কোনো চিহ্নে ভোট দিতে বলা বা আকার-ইঙ্গিতে কথা বলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
Voting in West Bengal : ভোটারদের আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধি
রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীদের জন্য একটি বড় নিষেধাজ্ঞা হলো ভোটারদের পরিবহনের ব্যবস্থা করা।ব্যক্তিগত গাড়ি: কোনো প্রার্থী বা দল ভোটারদের বুথে নিয়ে আসার জন্য গাড়ি বা অন্য কোনো যানবাহন সরবরাহ করতে পারবেন না। এটি আদর্শ আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন।প্রলোভন: ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের খাবার বা পানীয় সরবরাহ করাকে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হিসেবে গণ্য করা হয়।
Voting in West Bengal : ভোট পরবর্তী নিরাপত্তা ও স্ট্রং রুম
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ইভিএম (EVM) এবং ভিভিপ্যাট (VVPAT) মেশিনগুলো সিলগালা করা হয়। এরপর সেগুলোকে কড়া নিরাপত্তায় স্ট্রং রুমে নিয়ে যাওয়া হয়।সিসিটিভি নজরদারি: স্ট্রং রুমগুলোতে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি থাকে।এজেন্টদের তদারকি: রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের স্ট্রং রুমের বাইরের পরিধি পাহারা দেওয়ার বা তদারকি করার অনুমতি দেওয়া হয় যাতে কোনো প্রকার কারচুপির সন্দেহ না থাকে।
Voting in West Bengal : শান্তিপূর্ণ ফল ঘোষণা ও বিজয় মিছিল
ভোট গণনা এবং ফল ঘোষণার দিনও কমিশনের নির্দেশিকা কার্যকর থাকে। বিজয় উৎসব যাতে হিংসাত্মক না হয়ে ওঠে, সেদিকে নজর রাখা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলার স্বার্থে ফল প্রকাশের পর বিজয় মিছিলের ওপর সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতে পারে।ভোটের দিনের কুইক গাইড:অ্যাকশনকমিশনের অনুমতি আছে কি?কেন্দ্রের ১০০ মিটারে মাইক বাজানোনা (সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)ভোটারদের পরিচয়পত্র বিলিহ্যাঁ (নির্দিষ্ট ক্যাম্প থেকে)অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশনা (লাইসেন্সপ্রাপ্ত হলেও নিষিদ্ধ)ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম থাকানা (শুধুমাত্র নামহীন সাদা স্লিপ)
Voting in West Bengal :কোথায় কবে ভোট
২৩ এবং ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে ভোট। গণনা এবং ফলঘোষণা ৪ মে।

💬 আপনার মতামত লিখুন