
বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী singer julekha জুলেখা সরকারের ফুল জীবনী সহ সুপার কালেকশন ভিডিও গুলো দেখুন আমাদের সাইটে
বাংলাদেশের লোকসংগীতের ইতিহাসে বাউল গান এক অনন্য আত্মিক ধারা। এই ধারার মধ্যেই
যাঁরা নিজের জীবন, প্রেম, দর্শন ও আত্মসাধনাকে মিশিয়ে দিয়েছেন,
তাঁদের মধ্যে বাউল শিল্পী জুলেখা সরকার একটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য নাম।
তিনি কেবল একজন কণ্ঠশিল্পী নন, বরং একজন সাধক, যিনি বাউল দর্শনকে
হৃদয়ে ধারণ করে মানুষের মাঝে তা ছড়িয়ে দিয়েছেন।
জুলেখা সরকারের জন্ম বাংলাদেশের এক গ্রামীণ পরিবেশে, যেখানে লোকসংগীত ছিল
দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শৈশব থেকেই তিনি মাটির গন্ধ, নদীর কলকল ধ্বনি,
আর গ্রামীণ মানুষের সহজ জীবনযাপনের মাঝে বড় হয়ে ওঠেন।
তাঁর পরিবার ছিল সাধারণ, কিন্তু সংস্কৃতিমনস্ক।
বাড়িতে মাঝে মাঝেই পালাগান, কীর্তন ও বাউল গানের আসর বসত,
যা ছোট্ট জুলেখার মনে গভীর ছাপ ফেলে।
গ্রামের এই সাংস্কৃতিক পরিবেশই তাঁকে বাউল গানের দিকে টেনে আনে।
ছোটবেলায় তিনি বুঝতে না পারলেও, বাউল গানের কথার মধ্যে লুকিয়ে থাকা
মানবতাবাদী দর্শন ও আত্মানুসন্ধানের ভাবনা তাঁর মনে এক অদ্ভুত প্রশ্নের জন্ম দিত।
কৈশোরে পা রাখার পর জুলেখা সরকার বাউল গানের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন।
বাউল গান তাঁর কাছে শুধু বিনোদন ছিল না, বরং জীবনের মানে খোঁজার এক পথ।
তিনি লক্ষ্য করেন, বাউলরা সমাজের প্রচলিত ভেদাভেদ মানেন না;
তাঁদের কাছে মানুষই মুখ্য, ধর্ম বা জাত নয়।
এই দর্শন জুলেখা সরকারের মনকে আলোড়িত করে।
তিনি উপলব্ধি করেন, বাউল গান এমন এক মাধ্যম,
যা মানুষের অন্তরের কথা সরাসরি বলে দেয়।
তখন থেকেই তিনি বাউল গানের চর্চা শুরু করেন
এবং স্থানীয় বাউল গুরুদের সান্নিধ্যে আসেন।
বাউল হওয়া মানে কেবল গান গাওয়া নয়, বরং একটি জীবনদর্শন গ্রহণ করা।
জুলেখা সরকারও সেই পথেই হাঁটেন।
তিনি একজন বাউল গুরুর কাছে দীক্ষা নেন
এবং বাউল সাধনার নিয়ম, আচরণ ও দর্শন সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করেন।
তাঁর গুরু তাঁকে শেখান—মানুষের দেহই আসল মন্দির,
আর হৃদয়ের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পরম সত্য।
এই শিক্ষা জুলেখার জীবন ও সংগীতে গভীর প্রভাব ফেলে।
তাঁর কণ্ঠে গাওয়া গানগুলোতে তাই কেবল সুর নয়,
বরং আত্মার আর্তি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
জুলেখা সরকারের গানের কণ্ঠে রয়েছে এক ধরনের মাটি-লাগা আবেগ।
তাঁর গান শুনলে মনে হয়,
যেন গ্রামবাংলার পথ ধরে হেঁটে যাওয়া কোনো বাউল
একতারা হাতে করে জীবনের কথা বলে যাচ্ছেন।
তিনি মূলত লালন শাহ, দুদ্দু শাহ, হাসন রাজা ও অন্যান্য বাউল সাধকদের গান পরিবেশন করেন।
পাশাপাশি কিছু আত্মানুভূতিপ্রসূত গানও তিনি গেয়েছেন,
যা শ্রোতাদের মনে গভীর দাগ কাটে।
সমাজে একজন নারী বাউল হওয়া সহজ নয়।
জুলেখা সরকারও এই পথে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছেন।
সামাজিক কটূক্তি, পারিবারিক চাপ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা
তাঁর জীবনের বাস্তবতা ছিল।
কিন্তু তিনি কখনো হার মানেননি।
তাঁর বিশ্বাস ছিল—সত্যের পথে থাকলে একদিন আলো আসবেই।
এই দৃঢ়তা তাঁকে আরও শক্ত করে তোলে
এবং তাঁর গান আরও গভীর ও জীবন্ত হয়ে ওঠে।
সময়ের সাথে সাথে জুলেখা সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাউল গানের আসরে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
গ্রামীণ মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকসংগীত উৎসবে
তাঁর পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
তাঁর গান শুনে অনেক তরুণ বাউল গানের প্রতি আগ্রহী হয়েছে,
যা বাউল ধারার ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
জুলেখা সরকারের গানের মূল শক্তি হলো বাউল দর্শন।
এই দর্শন মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সহনশীলতা ও আত্মপরিচয়ের কথা বলে।
তাঁর মতে, মানুষের ভেতরের মানুষটাকেই খুঁজে পাওয়াই জীবনের আসল সাধনা।
ধর্মীয় সংকীর্ণতা ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে
বাউল গান এক নীরব প্রতিবাদ।
জুলেখা সরকার তাঁর গান দিয়ে সেই প্রতিবাদই করে চলেছেন।
বর্তমানে জুলেখা সরকার বাউল গানের সাধনায় নিয়োজিত রয়েছেন।
তিনি চান—এই ঐতিহ্য যেন হারিয়ে না যায়।
নতুন প্রজন্মের মাঝে বাউল দর্শন পৌঁছে দেওয়াই
তাঁর জীবনের অন্যতম লক্ষ্য।
জুলেখা সরকারের জীবন প্রমাণ করে,
বাউল গান কেবল অতীতের ঐতিহ্য নয়,
বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতেরও এক শক্তিশালী সাংস্কৃতিক পথ।
বাউল শিল্পী জুলেখা সরকার এক সংগ্রামী জীবন ও আত্মিক সাধনার প্রতীক।
তাঁর গান আমাদের শেখায়—
মানুষ হওয়াই সবচেয়ে বড় ধর্ম।
এই বাউল সাধিকার জীবন ও কর্ম
বাংলার লোকসংগীতের ভাণ্ডারকে করেছে আরও সমৃদ্ধ।
জুলেখা সরকারের ফুল জীবনী সহ সুপার কালেকশন ভিডিও গুলো দেখুন আমাদের সাইটে – Alordesha Pinter Gallery
💬 আপনার মতামত লিখুন